শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
আজ থেকে (২৮/০৮/২০২০) চলবে শুরাই নেজামের অধীনে কাকরাইল মারকাজ মসজিদ কাকরাইল মসজিদে রুটি বানানোর মেশিনে আগুন যাত্রাবাড়ী মদিনা মসজিদে ১৪ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে তাবলিগের মারকাজের কার্যক্রম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় হামলার বিচার ও বৈধ কর্তৃপক্ষের কাছে মাদ্রাসার দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন মধুপুর পীর আল্লামা আব্দুল হামিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদপন্থীদের হামলায় আহত মাদ্রাসার নিরিহ ছাত্র ও শিক্ষকগন আজ (১৭ জুলাই ২০২০) থেকে শুরু হলো শুরাঈ নেজামের অধিনে কাকরাইল মারকাজের আমল যাত্রাবাড়ী মদিনা মসজিদে ০৩ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে শুরাই নেজামের তাবলিগের কার্যক্রম সাদ সাহেবের ভুলের পরিমাণ নয়, ভুলের কোয়ালিটির দিকে নজর দিন! আমাদের হযরতজিরা কেমন ছিলেন?
সরকারী অনুদান প্রত্যাখ্যান করলো মেখল মাদ্রাসা

সরকারী অনুদান প্রত্যাখ্যান করলো মেখল মাদ্রাসা

সাথীভাই নিউজ ডেস্কঃ মেখল মাদরাসার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,

‘আজ বিভিন্ন নিউজ মারেফত জানলাম যে হাটহাজারী ইউএনও মহোদয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষানিকেতন জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখলের জন্য হাটহাজারীর ২৪টি কওমী / আলিয়া মাদ্রাসার সাথে ২০,০০০ হাজার টাকা সরকারি সাহায্য বরাদ্দ করেছেন।

এই ক্ষেত্রে জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল কতৃপক্ষের বক্তব্য হলো প্রতিষ্ঠার ৯১ বছরে জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল কোন দিন কোন ধরনের সরকারি সাহায্য গ্রহন কররেনি, এমনকি বিগত ১৯৯১ ইং সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত প্রায় দশবার জামেয়ার নামে বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ আসলে ও জামিয়া কর্তৃপক্ষ সবিনয় তা ফেরত দিয়েছে, গ্রহন করেনি। দ্বিতীয়তো মেখলে কোন এতিম খানা নেই এটা মেখলের নাম ও নয়। মেখলের পুর নাম হলো আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল, এতিম খানা নয়। তৃতীয়তো জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ কতৃপক্ষ কোন ত্রানের জন্য আবেদন করেনি, তাই এই ভাবে না জানিয়ে জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখলের নাম ত্রান বরাদ্দের তালিকায় দেওয়াতে জামিয়া কতৃপক্ষ অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছে। আমরা ত্রান বরাদ্দের জন্য থানা নির্বাহি অফিসার জনাব রুহুল আমিন সাহেব কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই ভবিষ্যতে এই ভাবে কোন তালিকা করার আগে যেন কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং ত্রান বরাদ্দের টাকা গুলো কে অন্য কোথাও দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হছে।’

বিনীত, কর্তৃপক্ষ জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল

এদিকে মাওলানা মামুনুল হক বলেন,

সরকারি অনুদান গ্রহণ
কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য পরিপন্থি:

আপৎকালীন সময়ে রাষ্ট্র তার সর্বশ্রেণীর মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে, ভূমিকা পালন করবে -এটা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর প্রয়োজন। তাই আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। এ মন্তব্য সরকারের দিক থেকে বিবেচনা করে বলছি।
তবে কওমি মাদরাসার চিন্তাটা কওমি মাদরাসার মতো করেই করতে হবে। সরকারিভাবে যেকোনো ধরনের অনুদানের সঙ্গে অনেক বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকে। সরকারি অনুদান না নেয়া কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য। এটাকে কোনোভাবে গুরুত্বহীন বা দুর্বল করার সুযোগ নেই। বরং গণমানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নির্ভরতার যে পদ্ধতি প্রচলিত আছে সেটাকেই বহাল রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে।
সরকারি সহযোগিতা কওমি মাদরাসায় অফিশিয়ালি আসা শুরু হলে, দুটি সমস্যা হতে পারে।
প্রথম সমস্যা সরকারি অফিশিয়াল সিস্টেমের বিভিন্ন গেরাকলে পড়ে যাবে মাদরাসাগুলো। পর্যায়ক্রমে মাদরাসা সরকারি বিভিন্ন সিস্টেমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়বে।
যে সমস্ত জায়গায় সরকার অর্থায়ন করে থাকে সেখানে নজরদারি ও হস্তক্ষেপের স্কোপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাই আমি মনে করছি এর মাধ্যমে কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা নষ্ট হওয়ার একটি পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
দ্বিতীয় সমস্যা হলো সরকার যখনই কোন অনুদান দিবে স্বাভাবিকভাবে এটা গোপন রাখবে না বরং যতটুকু দেয়া হবে এর চেয়ে বেশি প্রচার করবে।
এই প্রচারণায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। মানুষ ভাবতে শুরু করতে পারে, সরকারিভাবে তো মাদরাসা গুলোকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে‌। কাজেই সাধারণ মানুষের মাদরাসা গুলোর সঙ্গে যে সংশ্লিষ্টতা এবং উদারহস্তে সহযোগিতার ধারা ব্যাহত হতে পারে।
এমনকি মানুষের মাঝে এমন ধারণাও তৈরি হতে পারে, যেমনটি সরকারি মাদরাসার বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা আছে। ওগুলো তো সরকার চালায়, কাজেই আমাদের সহযোগিতা দরকার কী?
কিন্তু বর্তমানে সাধারণ মানুষ মনে করে এই মাদরাসাগুলো আমাদের এবং আমাদেরই পরিচালনা করা উচিত। তারা কওমি মাদরাসাকে তাদের আত্মার প্রতিষ্ঠান মনে করে। সেই অনুভূতি থেকে মাদরাসাগুলোর সহযোগিতায় সাধারণ মানুষ সবসময় সম্পৃক্ত থাকে।
আমার বিশ্বাস, বর্তমানে অচল অবস্থায় মাদরাসাগুলো যদি জনগণের কাছে নিজেদের অচলাবস্থা তুলে ধরতে পারে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে সকল আয়োজন সম্পন্ন হবে। সাধারণ মানুষের মন কওমি মাদরাসা গুলোর প্রতি আরো বেশি ধাবিত হবে। ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতেই মাদরাসাগুলোর সমস্যা সমাধান হতে পারে।
তবে সরকারি সহযোগিতা কওমি মাদরাসাগুলোতে আসতেই পারে। সেটা জাতীয়ভাবে নয়। অফিশিয়ালি কোন যোগাযোগের মাধ্যমে নয়। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা তাদের জনগণ নিয়ে ভাবে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে, এলাকার এমপি মন্ত্রীরা সরকারিভাবে নানা ধরনের বরাদ্দ এনে দিয়ে থাকে।
সেইভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কিছু সহযোগিতা করতে পারেন। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মত তাদের মাঝেও কিছু বরাদ্দ আসতে পারে। এটি তেমন ক্ষতিকর মনে হচ্ছে না। কিন্তু অফিশিয়ালি যদি কোন অনুদান আসে তাহলে কওমি মাদ্রাসার চলমান ধারা ওত ঐতিহ্য পদ্ধতিটা ব্যাহত হতে পারে।

মাওলানা মামুনুল হক, সিনিয়র মুহাদ্দিস জামিয়া রাহমানিয়া

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর-রাহা সেবাই আমাদের ধর্ম।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৩৪৫,৮০৫
সুস্থ
২৫২,৩৩৫
মৃত্যু
৪,৮৮১
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
১,৫৪১
সুস্থ
১,৯২৩
মৃত্যু
২২
স্পন্সর: একতা হোস্ট



©Copyright 2020 Sathivai.com
Desing & Developed BY sayem mahamud