বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০১:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আল্টিমেটাম দিলো হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বাড্ডায় ইমাম ওলামা পরিষদ এর উদ্যোগে ফ্রান্স বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল পণ্য বয়কট করে নবির অবমাননার প্রতিবাদ করার আহ্বান মাওলানা তারিক জামিলের.. ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ০৮ অক্টোবর ২০২০ যাত্রাবাড়ী মদিনা মসজিদে চলবে তাবলীগের মারকাজের আমল। আজ থেকে (২৮/০৮/২০২০) চলবে শুরাই নেজামের অধীনে কাকরাইল মারকাজ মসজিদ কাকরাইল মসজিদে রুটি বানানোর মেশিনে আগুন যাত্রাবাড়ী মদিনা মসজিদে ১৪ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে তাবলিগের মারকাজের কার্যক্রম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় হামলার বিচার ও বৈধ কর্তৃপক্ষের কাছে মাদ্রাসার দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন মধুপুর পীর আল্লামা আব্দুল হামিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদপন্থীদের হামলায় আহত মাদ্রাসার নিরিহ ছাত্র ও শিক্ষকগন
মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় হামলার বিচার ও বৈধ কর্তৃপক্ষের কাছে মাদ্রাসার দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় হামলার বিচার ও বৈধ কর্তৃপক্ষের কাছে মাদ্রাসার দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সাথীভাই নিউজ ডেস্কঃ রাজধানী ভাটারার ছোলাইমাদ এলাকায় অবস্থিত ‘আল-মাদ্রাসাতু মুঈনুল ইসলাম’ কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের উপর গত ২ আগস্ট হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ এবং বৈধ কর্তৃপক্ষে হাতে মাদরাসার দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে সাংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকবৃন্দ।

আজ (১২ আগস্ট) বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মাদ্রাসা পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কাকরাইলের মুরুব্বি ও ভিক্টোরিয়া পার্ক জামে মসজিদের খতিব মুফতি আমানুল হক, ইত্তেফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশের মহাসচিব ও ঢাকার গাউছিয়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, আল-মাদরাসাতু মুঈনুল ইসলামের মুহতামিম মাওলানা আতাউল্লাহ, শিক্ষা সচিব মুফতি সলিম উল্লাহ ও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক মুফতি আতাউর রহমান (রাহ.)এর ভাই মুফতি মামুন, হাবিবুল্লাহ রায়হান, মুফতি যোবায়ের গণী, মুফতি আবদুল গাফফার, মুফতি আব্দুল্লাহ ইদরীস প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শূরা কমিটির সভাপতি মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদ।

লিখিত বক্তব্যে মাওলানা শাহরিয়ার মাহমূদ বলেন, চারজন প্রতিষ্ঠাতার সমন্বয়ে বেফাকভুক্ত আল-মাদরাসাতু মুঈনুল ইসলাম ১৯৯৭ সালে জসিম উদ্দীন ঢালী কর্তৃক দানকৃত ভাটারার সোলাইমাদস্থ টেক-ঢালিবাড়ির ভূমিতে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করে। মসজিদ-মাদ্রাসার জন্য দানকৃত ভূমির দলীলে সুস্পষ্ট শর্ত রাখা হয় যে, মাদ্রাসাটি তাবলীগ জামাআতের কাকরাইল ও দিল্লীর মুরুব্বী ওলামাদের পরামর্শে পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা মঈনুল ইসলামের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল মুফতী আতাউর রহমান ২০১৮ সালে দুর্ভাগ্যক্রমে মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্রদের নীতি-আদর্শ ও ইচ্ছার বিপরীতে সাদ গ্রুপের পক্ষে অবস্থান নেন। যার ফলে প্রায় ১৮/২০ জন উস্তাদ তাকে সাদ গ্রুপের বিভ্রান্তি বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে ঈমান আক্বীদা রক্ষার্থে মাদ্রাসা ত্যাগ করেন। মাদ্রাসার ৬০০ ছাত্রের মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্র মাদ্রাসা ছেড়ে অন্য মাদ্রাসায় চলে যায়। এতে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক অবনতি ঘটে।

মাওলানা শাহরিয়ার আরো বলেন, আল্লাহর হুকুমে চলতি সনের গত ১১ মে মুফতী আতাউর রহমান ইন্তেকাল করেন। আস্তে আস্তে সকল শিক্ষক ও ছাত্রগণ মাদ্রাসায় ফিরে আসতে শুরু করেন। জমিদাতা জনাব আফতাব উদ্দিন ঢালীর সভাপতিত্বে গত ২৭ মে এক সাধারণ সভায় মাদ্রাসার নতুন শূরা কমিটি গঠন করা হয়। শূরা কমিটিতে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতাদের জীবিত সকলেই এবং বেফাকের মুরুব্বীগণও অন্তর্ভুক্ত হন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসাটি যখন আবার তার হৃত ভাবমূর্তি ফিরে পাওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো, তখনই মাদরাসার প্রাক্তন প্রিন্সিপাল আতাউর রহমানের শশুর আব্দুর রাজ্জাক ও তার কয়েকজন সাদপন্থী সহযোগীদের ষড়যন্ত্র ও আক্রমণের শিকার হয়।

তাদের দাবী, যেহেতু মুফতী আতাউর রহমান ইন্তেকালের আগে ২ বছর সাদ মতাবাদ এবং আদর্শে চলেছেন, সুতরাং তার ইন্তেকালের পরে সাদ অনুসারীরা মাদ্রাসা চালাবে। অথচ তারা এ বিষয়টি খেয়াল করেনি যে, এটা একটা একান্তই আবেগী কথা। মাদ্রাসা চলবে জমি দাতাদের মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মাদ্রাসার নীতিমালা অনুসারে। আফসোস, সাদ পন্থীদের জন্য, তারা আলেম ওলামাদের রক্তের নেশায় বিভোর হয়ে পড়েছেন। টঙ্গীর মর্মান্তিক ঘটনার পর বহু জায়গায় আলেমদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

তিনি বল্লেন, মাদ্রাসা মুঈনুল ইসলামে গত ৭ জুন মিরপুরের মিজানের নেতৃত্বে প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু জিডি করার পরও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় ভাটারা থানার ওসি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেননি। গত ১ আগস্ট কুরবানীর ঈদের দিন রাত্রে মাদরাসার প্রাক্তন প্রিন্সিপাল আতাউর রহমানের শশুর আব্দুর রাজ্জাক, মাদরাসার হিসাব রক্ষক আব্দুল আহাদ ও ইঞ্জিনিয়ার রফিকের সহায়তায় মাদ্রাসা মুঈনুল ইসলামের মসজিদে বিভিন্ন এলাকা থেকে সাদপন্থীদের প্রায় শতাধিক সদস্য জড়ো হয়। পরিস্থিতির প্রতিকূলতা আঁচ করে রাত ১১টায় মাদরাসার শিক্ষা সচিব মুফতী সেলিম ভাটারা থানার ওসিকে আশঙ্কার কথা ফোনে জানালে তিনি কোন পদক্ষেপ না নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে বলেন।

লিখিত বক্তব্যে মাওলানা শাহরিয়ার আরো বলেন, পর দিন ২ আগস্ট ভোর ৬টায় দেখা করার অজুহাত দেখিয়ে দারোয়ানকে দিয়ে কলাপসিবল গেটের তালা খুলে মাদ্রাসা মসজিদের দ্বিতীয় তলায় অবস্থানরত শিক্ষক-ছাত্রদের উপর লোহার রড ও ধারালো ছুরি নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। অতর্কিত আক্রমণে ঘুমন্ত শিক্ষক-ছাত্রগণ বিচলিত হয়ে পড়েন। এ সময় ৬/৭ জনের মাথা ফেটে যায় এবং মোট ২৭ জন আহত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে মারতে মারতে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয় হামলাকারীরা। এলাকাবাসী খবর পেয়ে ছুটে এলে সাদপন্থী হামলাকারীরা মাদ্রাসা গেটে তালা দিয়ে ভেতরে অবস্থান নেয়।

মাওলানা শাহরিয়ার মাহমূদ বলেন, পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ এসে সাদপন্থীদেরকে গ্রেফতার না করে শুধু তাদেরকে নিয়ে ওসি ভাটারা কয়েক ঘন্টা মাদ্রাসার অভ্যন্তরে অবস্থান করেন। এর মধ্যে হামলাকারীরা মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় দলীল, কাগজপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র বিনষ্ট করে ও নিয়ে যায়। অবশেষে হামলাকারীদেরকে নির্বিঘেœ চলে যেতে দিয়ে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পাহারা বসানো হয়। থানায় ২ বার চেষ্টা করা হলেও ওসি ভাটারা মামলা গ্রহণ করেননি। ভাটারা থানায় বার বার অবগত করা সত্ত্বেও আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কোনরূপ পদক্ষেপ না নিয়ে বরং পক্ষাবলম্বন করায় পুলিশ প্রশাসন তথা সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুনির্দিষ্ট ৪টি দাবির উল্লেখ করে বলা হয়-

(১) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাদরাসার মসজিদকে আজান ও নামাজের জন্য খুলে দিতে হবে।

(২) অনতিবিলম্বে সাদপন্থী হামলাকারীদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনতে হবে।

(৩) মাদ্রাসা মুঈনুল ইসলামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জড়িত প্রকৃত বৈধ কর্তৃপক্ষের কাছে মাদ্রাসার দায়িত্ব হস্তান্তর করা। এবং

(৪) অনতিবিলম্বে ওসি ভাটারাকে প্রত্যাহার করা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর-রাহা সেবাই আমাদের ধর্ম।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৪৫০,৬৪৩
সুস্থ
৩৬৪,৯১৬
মৃত্যু
৬,৪২০
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,২৩০
সুস্থ
২,২২৬
মৃত্যু
৩২
স্পন্সর: একতা হোস্ট



©Copyright 2020 Sathivai.com
Desing & Developed BY sayem mahamud