মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
ইবাদতের বসন্ত কাল, মাহে রমজান বিদায় নিচ্ছে আমাদের থেকে জুমাতুল বিদা ও তার বিশেষ নামায- ‘‘একটি ভিত্তিহীন আমল’’ আজ ২০ই রমজান সূর্যাস্তের পূর্বে এতেকাফে বসার সময়। তাবলীগের সংকটের নেপথ্যে কিছু কথা যাত্রাবাড়ী জামিআ’তে অনুষ্ঠিত আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ মাওলানা ইলিয়াস সাহেব (রহঃ) কিভাবে রমজান কাটাতেন — শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহঃ নবীজি (সাঃ) যেভাবে রমজান কাটাতেন আম্মাজান আয়েশা (রা.)-এর ওপর অপবাদ; একাল-সেকাল উত্তরা পার্ক মসজিদে তাবলিগের শুরায়ী নেজামের জামাতের নুসরতে আসেন আল্লামা আরশাদ মাদানী (দাঃবাঃ) দাওয়াত ও তাবলীগে আলেমদের ভূমিকা অপরিসীম: মাওলানা আব্দুল মালেক (দাঃবাঃ)
নবীজি (সাঃ) যেভাবে রমজান কাটাতেন

নবীজি (সাঃ) যেভাবে রমজান কাটাতেন

বছর ঘুরে আবারও এলো মাহে রমজান। এ মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হতেন। এমনকি এক-দুই মাস আগে থেকেই নবীজি (সা.) রমজানের প্রস্তুতি শুরু করতেন। রমজান পর্যন্ত পৌঁছার দোয়া করতেন। আর রমজান শুরু হলে দীর্ঘ এক মাসের তারাবি, তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য নেক আমলের মধ্য দিয়ে কাটাতেন পবিত্র এই মাসটি। তাই মুসলিম উম্মাহর কাছে এই মাস আলাদা মহিমা ও তাৎপর্য নিয়ে আগমন করে।
পবিত্র এই মাহে রমজানে নবীজি (সা.) যেসব আমল করতেন নিম্নে তার কয়েকটি আমল উল্লেখ করছি।

সাহরি ও ইফতার
রমজানজুড়ে প্রিয় নবীজির আমল ছিল যথাসময়ে ইফতার করা। ঘরে, সফরে বা যুদ্ধক্ষেত্রে সব সময় নবীজির আমল ছিল সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুর বা অন্য কোনো খাবারের মাধ্যমে রোজা ভাঙা।
একবারের ঘটনা, সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনু আওফ (রা.) বলেন, রমজান মাসে কোনো এক সফরে আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গী ছিলাম। সূর্য ডুবে গেলে তিনি বললেন, হে অমুক! অবতরণ করো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এখনো দিন রয়ে গেছে। পুনরায় তিনি বললেন, অবতরণ করো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। তখন সে অবতরণ করল এবং ছাতুগুলো তাঁর নিকট পেশ করল। নবী (সা.) পান করলেন এবং হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেন, সূর্য এদিক থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং রাত যখন এদিক থেকে ঘনিয়ে আসবে, তখন সিয়াম পালনকারী ইফতার করবে। (মুসলিম, হাদিস : ২৪৪৯)

তবে সাহরির আমল ছিল ভিন্ন। নবীজি সাহরি খেতেন সুবহে সাদিকের আগে রাতের শেষ ভাগে। আর এই সময় সাহরি খাওয়া নবীজির পছন্দনীয় আমল।

সাথী ভাই চ্যানেলের সকল দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য, আর রাহা হাসপাতালে সকল ল্যাব পরীক্ষায় ৩০% ছাড়। বিস্তারিত –https://www.facebook.com/ar.raha.hospital/

বিখ্যাত সাহাবি জায়দ বিন সাবিত (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাহরি খাই, এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ফজরের আজান ও সাহরির মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ। (বুখারি, হাদিস : ১৯২১)
তবে খেয়াল রাখতে হবে, বিলম্ব করতে গিয়ে যেন সাহরির সময় পার না হয়ে যায়।

তারাবিহ তারাবির ফজিলত সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকীর আশায় কিয়ামুল লাইল তথা তারাবি আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বুখারী ও মুসলিম) রাসুল (সা:) তারাবিকে কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তারাবি যেন ফরজ না হয়ে যায়, যেটা আদায়ে উম্মতের কষ্ট হতে পারে, সেটা রাসুল (সা:) এর একটি হাদিসে থেকেই বোঝা যায়।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) একবার রমজান মাসে রাত্রিবেলায় মসজিদে নববীতে নামাজ (তারাবি) আদায় করলেন।উপস্থিত লোকজনও তার সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন। একইভাবে তারা দ্বিতীয় দিনেও নামাজ আদায় করলেন এবং লোকসংখ্যা অনেক বেশি হলো। অতঃপর তৃতীয় এবং চতুর্থ দিনেও মানুষ একত্রিত হলো। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (স.) হুজরা থেকে বেরিয়ে তাদের কাছে এলেন না। অতঃপর সকাল হলে তিনি এলেন এবং বললেন, তোমাদের অপেক্ষা করার বিষয়টি আমি লক্ষ্য করেছি। কিন্তু শুধু এ ভয়ে আমি তোমাদের নিকট আসা থেকে বিরত থেকেছি যে, আমার আশঙ্কা হচ্ছিল, না জানি তোমাদের ওপর উহা (তারাবি) ফরজ করে দেওয়া হয়। (বুখারী) 

তারাবি বিশ রাকাত সুন্নাত। এটা রাসুল (সা:), সাহাবী, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন এবং মুজতাহিদ ইমামগণের আমল দ্বারা প্রমাণিত।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা:) রমজান মাসে বিশ রাকাত এবং বিতির পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা)

সমস্ত সাহাবীদের আমলও বিশ রাকাত ছিল। রাসুল (সা:) এর নাতি হযরত আলী ইবনে হাসান (রা:) থেকে বর্ণিত, হযরত ওমর (রা:) এর নির্দেশে লোকদেরকে নিয়ে উবাই বিন কাব (রা:) বিশ রাকাত তারাবি পড়েছেন। (আবু দাউদ)

এভাবে খলিফা ওমর, ওসমান, আলী (রা:) সহ সকল সাহাবীদের ঐক্যমতে বিশ তারাবি পড়া হয়েছে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ:) বলেন, মক্কা ও মদীনা শরীফে সাহাবায়ে কেরামের যুগ হতে আজ পর্যন্ত সব সময় বিশ রাকাত তারাবি খতমে কোরআনসহ জামাতের সঙ্গে পড়া হয়। তারাবি নামাজে পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত বা শ্রবণ করা ও সুন্নত। রাসূল (সা:)বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করবে সে একটি নেকী অর্জন করবে এবং একটি নেকীকে দশগুণ বৃদ্ধি করে প্রদান করা হবে। (তিরমিজি)

কুরআনে কারীম তেলাওয়াতের মতো শুনলেও একই রকম সওয়াব। এজন্য তারাবি নামাজে পরিপূর্ণ আদবের সাথে মনোযোগ দিয়ে কোরআন শুনতে হবে।

বিশ রাকাত না পড়ে ইমামকে রেখে মসজিদ ত্যাগ করা উচিত নয়। রাসুল (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত কিয়ামুল লাইল তথা তারাবি আদায় করবে, তার জন্য পুরো রাত সিয়াম পালনের সওয়াব লাভ হবে। (তিরমিজি)

করোনায় সবকিছু থমকে গেছে। সংক্রমণ এড়াতে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়সহ অনেক কিছুতে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তারাবির নামাজে সর্বোচ্চ ১২ জন অংশ নিতে পারবে বলে নির্দেশনা দেয় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। যার কারণে মুসল্লিরা নিজ নিজ ঘরে এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করছেন। সবাই ব্যক্তিগতভাবে তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করছেন।

মাহে রমজানের বিশেষ ফজিলত পূর্ণ আমল তারাবির নামাজে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। আসুন আমরা যথাযথ গুরুত্বের সাথে তারাবির নামাজ আদায় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দান করুন।

তাহাজ্জুদ
রমজানে নবীজির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল ছিল তাহাজ্জুদের নামাজ। প্রথম রাতে তারাবি শেষ করে রাতের শেষ অংশে আবার তাহাজ্জুদের জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন। প্রিয় নবীর তাহাজ্জুদ নামাজের সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) রমজান মাসে ও অন্যান্য সব মাসের রাতে এগারো রাকাতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন। এ চার রাকাত আদায়ের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর আরো চার রাকাত সালাত আদায় করতেন। এ চার রাকাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিন রাকাত আদায় করতেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি বিতির সালাত আদায়ের পূর্বে ঘুমিয়ে পড়েন? নবী (সা.) বললেন, আমার চোখ ঘুমায়, আমার অন্তর ঘুমায় না। (বুখারি, হাদিস : ৩৫৬৯)

কোরআন তিলাওয়াত ও দানশীলতা
রমজান মাস এলেই নবীজি কোরআন তিলাওয়াত ও সদকা—এই দুটি আমলের ওপর খুব বেশি গুরুত্ব দিতেন এবং সাহাবায়ে কেরামদেরও এর ওপর তাগিদ দিতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমজানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরাইল (আ.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমজানের প্রতি রাতেই জিবরাইল (আ.) তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন এবং তাঁরা একে অপরকে কোরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল (সা.) রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৬)

https://www.facebook.com/Sathi-Vai-Foundation-105054478357865/

ইতিকাফ
রমজানে নবী কারিম (সা.)-এর ধারাবাহিক ও গুরুত্বপূর্ণ আমল ছিল ইতিকাফ। আম্মাজান আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমজানের শেষ দশকে নবী (সা.) ইতিকাফ করতেন। (বুখারি, হাদিস : ২০৩৩)

এমনকি জিহাদের সফরের কারণে এক রমজানে তিনি ইতিকাফ করতে পারেননি, তবে পরবর্তী বছর ২০ দিন ইতিকাফ করে তা পূর্ণ করে নিয়েছেন। এই মর্মে সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, নবী কারিম (সা.) প্রতি রমজানে দশ দিনের ইতিকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন সে বছর তিনি বিশ দিনের ইতিকাফ করেছিলেন। (বুখারি, হাদিস : ২০৪৪)

তাই আসুন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবাদের পথ অনুসরণ করে পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করে তাকওয়া ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে এই মাসের রহমত, বরকত ও মাগফিরাত অর্জন করি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর-রাহা সেবাই আমাদের ধর্ম।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট



©Copyright 2020 Sathivai.com
Desing & Developed BY sayem mahamud