রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১০:৫১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
ইবাদতের বসন্ত কাল, মাহে রমজান বিদায় নিচ্ছে আমাদের থেকে জুমাতুল বিদা ও তার বিশেষ নামায- ‘‘একটি ভিত্তিহীন আমল’’ আজ ২০ই রমজান সূর্যাস্তের পূর্বে এতেকাফে বসার সময়। তাবলীগের সংকটের নেপথ্যে কিছু কথা যাত্রাবাড়ী জামিআ’তে অনুষ্ঠিত আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ মাওলানা ইলিয়াস সাহেব (রহঃ) কিভাবে রমজান কাটাতেন — শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহঃ নবীজি (সাঃ) যেভাবে রমজান কাটাতেন আম্মাজান আয়েশা (রা.)-এর ওপর অপবাদ; একাল-সেকাল উত্তরা পার্ক মসজিদে তাবলিগের শুরায়ী নেজামের জামাতের নুসরতে আসেন আল্লামা আরশাদ মাদানী (দাঃবাঃ) দাওয়াত ও তাবলীগে আলেমদের ভূমিকা অপরিসীম: মাওলানা আব্দুল মালেক (দাঃবাঃ)
তাবলীগের সংকটের নেপথ্যে কিছু কথা

তাবলীগের সংকটের নেপথ্যে কিছু কথা

২০১০ বা ১১ সালে বাংলাদেশে আসামের জামাত আসে নতুন ছয় নম্বর নিয়ে ,তখন পুরান সাথীদেরই অনেক সমস্যা হয়েছিল এই নতুন ৬ নং আত্মস্থকরণে, নতুনদের শিখানো ছিল অনেক কঠিন ৷ নতুন ছয় নম্বর নামে কাকরাইলে বই বিক্রি হত ৷ এতে হাদীস চয়ন করা হয়েছিল মুন্তাখাব থেকে ৷

মুন্তাখাব হাদীস চালু হলো, অথচ মাশোয়ারা ছাড়া ৷ মাওলানা ইউসুফ রঃ ও এনামুল হাসান রঃ এর ৫১বছরের মালফুজাতে এই কিতাব চালুর ব্যাপারে কোন ইশারাও নেই ৷ সহীহ হাদীসের সাথে আমাদের বিরোধ নেই, কিন্তু মাশোয়ারা ছাড়া মোকামী তালিমে তো বুখারী- মুসলিমও পড়া যাবে না ৷

এলান, গাস্তের আদব, তারুফী কথা, বয়ানে কথার পরিবর্তন আসলো ৷ দেখা যেত, ২০-৩০ মিনিট বয়ানে প্রায় ৮-১০ বার এইকথা বলা হত যে, এ বিষয়ে সাদ সাহেব এইকথা বলছেন, অমুক কথা বলছেন ৷ কিন্তু, কোন জীবিত ব্যক্তির নাম প্রতি মজমাতে অধিক পরিমাণে নেয়া ভয়ানক এবং মানুষকে ব্যক্তিমুখী করার অপচেষ্টা ৷ কারণ কোন জীবিত ব্যক্তি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ফিতনা থেকে খালি নয়। ইলিয়াস রহ এটাও পছন্দ করতেন না যে তাঁর নামের উপরে কোন মজমা জমা করা হোক।

সাদ সাহেব প্রায় তার প্রত্যেক বয়ানে শুধু মাওলানা ইলিয়াস রঃ ও ইউসুফ রঃ এর কওল নকল করেন, অথচ তিনি তাদের দেখেননি, যে এনামুল হাসান রঃ এর ত্রিশ বছর সহবতে ছিলেন, তার একটাও কওল উদ্ধৃতি করতে আমি শুনিনি, হয়ত কেউ শুনতে পারেন ৷ উম্মতকে যেন এক বংশমুখী করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে ৷

২০১২-১৩ সালে শুক্রবার ঢাকা শহরের মাশোয়ারায় বলা হত, আড়াই ঘন্টার মেহনতকে দাওয়াত-তালিম-এস্তেগবালের সুরতে করার জন্য, ৮জন সাথী ছাড়া এটা নাকি সম্ভব নয়, মসজিদওয়ার জামাত বানাও, পাচ ওয়াক্ত নামাযের পর চালু কর, এসবে আমার আপত্তি নেই ৷ কিন্তু যখন বলা হল, মসজিদের বাইরে দাওয়াত দেয়া সুন্নতের খেলাফ, মসজিদে ইমানী হালকা কায়েম করা ফরজ, এই তরিকার নাম মসজিদ আবাদীর মেহনত ,তখনই তো কুরআন-হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে গেল ৷

নিজামুদ্দীন যাওয়ার দাওয়াত আগে ছিল তিন চিল্লার সাথীদের জন্য, ২০১৪ সালে এই তাশকিল প্রত্যেক মজমায় অনেক বেড়ে গেল ৷ নতুন ফয়সালা আসলো, ১০ দিন লাগানো সাথী এমনকি সুন্নতের উপর নাই ক্লিন সেভ করা সাথীরাও নিজামুদ্দীন সফর করতে পারবে ৷ মাস্তুরাতসহ জামাত যেখানে দেশে ১৫ দিন এবং ১ চিল্লা না দিয়ে বিদেশ সফর করতে পারে না, সেখানে ৩ বার ৩ দিন লাগানো সাথীকে মাস্তুরাতসহ নিজামুদ্দিনে পাঠানো হত ৷

ওদিকে পর্দার আড়ালে, জুবায়ের হাসান রঃ এর মৃত্যুর পর থেকেই সাদ সাহেব বাইয়াত করা শুরু করেছেন ৷ (অথচ ১৯৯৫ সালের মাসোয়ারাতে উনার রায়ের উপরেই আগে থেকে চালু থাকা বাইয়াত বন্ধ করার ফায়সালা হয়েছিল)। পুরুষদেরকে বাইয়াত করতেছেন আর মহিলাদের জামাতের সাথে ২ রাকাত নফল নামায পড়িয়ে রশি ধরে বাইয়াত করতেছেন ৷ এটা কি সুন্নত তরিকা? বাইয়াতে ইলিয়াস রঃ এর নাম নিয়ে উম্মতকে ধোকা দিচ্ছেন ৷ কারণ সুলুকের নিয়ম অনুযায়ী যার নামে বাইয়াত করানো হবে তাঁর সাথে সরাসরি খিলাফতের সম্পর্ক থাকতে হবে অর্থাৎ সরাসরি তাঁর মুরিদ হতে হবে। কিন্তু সবাই জানে সাদ সাহেবের জন্মের ২১ বছর আগে ইলিয়াস রহ ইন্তেকাল করেছেন।

দেড় বছরে বাইয়াতের মাধ্যমে অন্ধভক্ত অনুসারীদের এক জামাত তৈরি করে ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট প্রথম ঘোষণা করলেন, “খোদার কসম, আমি তোমাদের সবার আমীর, ……………. না মানো ত জাহান্নামে যাও ৷”

নভেম্বর ২০১৫ তে রায়বেন্ড ইজতেমায় ফায়সাল ছিলেন হাজী আব্দুল ওহাব রহঃ। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি নাকি আমীর দাবী করেছ? সাদ সাহেব অস্বীকার করলেন ৷

তাদের দাবী অনুযায়ী যদি ৯৫ সাল থেকে সাদ সাহেব আমীর হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি হাজী সাহেবকে বলতেন, আপনি আমাকে আমীর বানিয়েছেন, এখন ইতায়াত করুন ৷ অথচ বলেননি, কেননা তিনি জানতেন, হাজী সাহেবকে এটা মানানো যাবে না। মাওলানা তারিক জামিল সাহেবের বয়ান অনুযায়ী, হাজী সাহেব রঃ মাশোয়ারা করে ৩য় হজরতজীর বানানো শুরাকে নবায়ন করেন যাতে সেই পুরান সাথীদের স্বাক্ষর আছে যারা ২য় ও ৩য় হজরতজীর সহবত পেয়েছেন ৷ সাদ সাহেবের কাছে কয়েকবার পেশ করা হয়, কিন্তু তিনি স্বাক্ষর করেন নি। তখন রাত ১/২টার সময় ওয়াসিফ ভাই সাদ সাহেবের কামরায় খবর পাঠিয়ে বলেন, “আপনি হাজী সাহেবের প্রস্তাব মানবেন না, আমরা আছি আপনার সাথে, আমরা আপনাকে আমির মানবো ৷” (যাকে দিয়ে খবর পাঠানো হয়েছিল সেই সাথীর বাসা ঢাকা)

আমার বিশ্বাস, কিছু অন্ধ চাটুকারের দল সাদ সাহেবের সংশোধনের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল ৷ পরে হাজী সাহেব রঃ পুরো বিশ্বের কাছে চিঠি পাঠান যে, “৩য় হজরতজীর পরে যেভাবে মেহনত শুরায়ী নেজামে চলেছে, তেমনি চলবে”। অথচ, ওয়াসিফ ভাই সেই চিঠিটি কাকরাইলসহ সকল মারকাজে পড়া বন্ধ করে দেন ৷ পরে দেওবন্দ ফতোয়া দিলে সাদ সাহেবের রুজুনামা এমনভাবে প্রচার করা হয় যে, সবাই যেন বিশ্বাস করে যে তার রুজু গ্রহণ করা হয়েছে ৷ কিন্তু, তিনি তার মতাদর্শ ও বয়ানের ধাচ পরিবর্তন না করায় দেওবন্দ এখনও মুতমাইন হতে পারেনি ৷

২০১৭ সালে টঙ্গীতে সাদ সাহেবের আমীর বানানোর নাটক সাজিয়ে পুরো বিশ্বকে চরম ধোকা দেয়া হয় ৷ মিথ্যাচারের নমুনা দেখুন, “৩০ লক্ষ লোকের মজমায় ৩৫ হাজার আলেমের উপস্থিতিতে ২০১ দেশের শুরা সাদ সাহেবকে আমীর মেনে নিয়েছে ৷” এটা যে কত বড় মিথ্যা তা সানাউল্লাহ ভাইয়ের তাহকীক বইটি পড়লে বোঝা যায় ৷

আমাদের কাকরাইলের ওলামা শুরা সদস্যরা ইখতেলাফের আশংকায় চুপ থেকে সবর করেছেন, কিন্তু গোপনে গোপনে কিছুুুুু লোক গ্রুপিং করেছেন। ২০১৭ সালে মটর শোভাযাত্রা করে সাদ সাহেবকে টঙ্গীতে আনা, আলেমদের সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করে তাকে ও তার ছেলেকে বয়ান করতে দেয়া, বিশাল লাঠিয়াল বাহিনীর পাহাড়ায় সাদ সাহেবের আমীর বানানোর নাটক করা, ২০১৭ তে ৫ দিনের জোড় থেকে সাথীদের সরিয়ে আনার অপচেষ্টা করা, ২০১৮ তে সাদ সাহেব টঙ্গী ইজতেমায় শরিক হতে বাধাপ্রাপ্ত হবার কারনে ইজতেমা বানচালের চেষ্টা করা- সবই এই গ্রুপিয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে ৷

আলহামদুলিল্লাহ, অধিকাংশ ৩ চিল্লার সাথী আলেমদের সাথে আছেন, তবে জযবার সাথে কুরবানী করনেওয়ালা সাথীদের একটা অংশ সাদ সাহেবের এতায়াতে আছেন ৷
(অনেকে তওবা করে ফিরে এসেছেন এবং এখনো আসতেছেন)

এর কিছু কারণ হলঃ
১। কুরবানী দেনেওয়ালা সাথীরা অনেকেই ২০১৪ থেকে ১৮ সালের মধ্যে নিজামুদ্দীন সফর করে সাদ সাহেবের হাতে বাইয়াত হয়েছেন ৷
২। ২০১৫-১৭ টঙ্গী ইজতেমার ২ ধাপে ও ২০১৮ তে কাকরাইলে অনেকে বাইয়াত হয়েছেন ৷
(সাথীদেরকে বশে রাখার জন্য বাইয়াত দারুণ একটা কৌশল হিসেবে কাজ করেছে, অথচ এই বাইয়াত ছিল উম্মতের আত্মশুদ্ধির একটা তরিকা)

৩। ওলামা শুরাগণ ইজতেমায়ীয়াত বজায় রাখতে সবর করেছেন আর বিভিন্ন গ্রুপিং করেছেন।
৪। বিভিন্ন বয়ানে সাদ সাহেবের কওল উদ্ধৃতির কারণে তার প্রতি অন্ধমহব্বত এবং এনামুল হাসান রঃ এর আলোচনা না থাকায় এক বংশের দিকে দিল ঝুকে পড়েছে ৷
৫। ইলিয়াস রঃ এই মেহনতকে কবুল করাইছেন ৷ কিন্তু মোজাকারার নামে নিজামুদ্দীন কবুল, ইলিয়াস সাহেবের বংশ কবুল, কিয়ামত পর্যন্ত কবুল ইত্যাদি ভুল আকীদা সাথীদের বিশ্বাস করানো হয়েছে ৷ কোন নবী তার বংশকে কবুল করাতে পারলেন না, ইলিয়াস রঃ পারলেন!!! আল্লাহ সঠিক বুঝ দান করুন ৷
৬। সাদ সাহেবের ভুলগুলোকে সঠিক দাবী করে উপস্থাপন, আলেমদের প্রতি বিষোদগার, শতশত মিথ্যার ছড়াছড়ি, ভুল ব্যাখ্যা অনেকের দিলকে এমন ভাবে পূর্ণ করে দিয়েছে যে হক কথা গ্রহণ করার জন্য আর দিল তৈরি হয় না ৷

তাদের সাথে তর্ক করা বোকামী ৷ তাদের জন্য দোয়া,কান্নাকাটি, তাহাজ্জুদ, সদকা, বেশি বেশি সালামের প্রচলন, খানা খাওয়ানো, হাদিয়া দেয়া ৷ হুসনে আখলাকের মাধ্যমেই তারা হকের দিকে ফিরবে ইনশাআল্লাহ৷ তবে, কারো জানার আগ্রহ থাকলে তাকে হক জানানো যায় ৷ কেউ তর্ক করতে চাইলে বলবো, ভাই, আমি কম বুঝি, আপনি আলেমদের কাছে যান ৷

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের মাঝে আবার ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দেন ৷

সাথী ভাই চ্যানেলের সকল দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য, আর রাহা হাসপাতালে সকল ল্যাব পরীক্ষায় ৩০% ছাড়। বিস্তারিত –https://www.facebook.com/ar.raha.hospital/

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর-রাহা সেবাই আমাদের ধর্ম।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট



©Copyright 2020 Sathivai.com
Desing & Developed BY sayem mahamud