মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:২০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
আজ থেকে (২৮/০৮/২০২০) চলবে শুরাই নেজামের অধীনে কাকরাইল মারকাজ মসজিদ কাকরাইল মসজিদে রুটি বানানোর মেশিনে আগুন যাত্রাবাড়ী মদিনা মসজিদে ১৪ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে তাবলিগের মারকাজের কার্যক্রম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় হামলার বিচার ও বৈধ কর্তৃপক্ষের কাছে মাদ্রাসার দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন মধুপুর পীর আল্লামা আব্দুল হামিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদপন্থীদের হামলায় আহত মাদ্রাসার নিরিহ ছাত্র ও শিক্ষকগন আজ (১৭ জুলাই ২০২০) থেকে শুরু হলো শুরাঈ নেজামের অধিনে কাকরাইল মারকাজের আমল যাত্রাবাড়ী মদিনা মসজিদে ০৩ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে শুরাই নেজামের তাবলিগের কার্যক্রম সাদ সাহেবের ভুলের পরিমাণ নয়, ভুলের কোয়ালিটির দিকে নজর দিন! আমাদের হযরতজিরা কেমন ছিলেন?
তাবলীগী মুরব্বীগণ রমজানে কি আমল করতেন।

তাবলীগী মুরব্বীগণ রমজানে কি আমল করতেন।

শায়খুলহাদীস হযরত মাওঃ যাকারিয়া (রহ.) “আপবীতী” গ্রন্থে বলেন, আমি আমার চাচার ইন্তেকালের পূর্বে এবং পরে দিল্লি নিযামুদ্দীনে পূর্ন রমজানমাস এতেকাফ করতাম। হযরত মাওঃ ইলিয়াস (রহ.) এর ইন্তেকালের পর তাবলীগের মারকায ও তাবলীগের জিম্মাদারগণের প্রতি শায়খুলহাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া (রহ.) এর বিশেষ নেক দৃষ্টি ও দোয়ার প্রয়োজন হত। তাই তিনি নিজামুদ্দীনে প্রতি রমজানে এতেকাফের আমল জারী রাখতেন। একবার ১৩৬৫ হিজরী ২৮ শে শাবান মুতাবেক ২৯ জুলাই ১৯৪৬ খৃী. শুক্রবার রাত্রে নিজামুদ্দীনে কি ধরনের বরকত ও রহমত অবতীর্ণ হয়েছিল সে সম্পর্কে হযরত মাওঃ মুহাম্মদ ছানী সাহেব, হযরত মাওঃ ইফসুফ সাহেবের জীবনী গ্রন্থে উল্লেখ করেন। রমজানে নিযামুদ্দীন মারকাযে সবচেয়ে বেশী এতেকাফকারীগণ থাকতেন। ভিতর বাহির সব জায়গায় কয়েক ফিট আগে পিছে পর্দার জন্য চাদর লটকানো থাকতেন। যা দ্বারা পরিপূর্ণ একাগ্রতার সাথে এতেকাফের সুযোগ হত। বহুদূর থেকে লোকজন আসতেন। হুজরার কাছে পশ্চিম দিকে হযরত শায়েখ (রহ.) নিজ পর্দার ভিতরে এতেকাফে থাকতেন। আর দক্ষিণ দিকের পশ্চিম পার্শ্বে প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত মাওঃ আবুলহাসান আলী নদভী থাকতেন। অন্যরা মসজিদের বিভিন্ন স্থানে এতেকাফে ছিলেন। ঐ রমজান নিযামুদ্দীনের মারকায ছিল বাগানের মত ফলে ফুলে ভরপুর। গোটা মসজিদে তিলাওয়াত ও যিকির চালু ছিল। সে পরিবেশ দেখে মনে হত একই সময় খানকা ও মাদরাসা চালু হয়েছে। দিন রাত যিকির ও তিলাওয়াত চলছে। কেউ প্রতিদিন এক বার কুরআন খতম করতেন এবং কেউ এর চেয়েও বেশী করতেন। হযরত শায়েখ ও হযরত মাওঃ ইউসুফ (রহ.) এর রিয়াজাত ও মোজাহাদার কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। একটা মুহুর্তও তাঁদের ইবাদত বিহীন কাটত না। দিনে সামান্য একটু ঘুমাতেন বাকী রাত দিন প্রায় সব সময় ইবাদতে মশগুল থাকতেন।
.
আগের নিযামুদ্দিন মারকাজ মসজিদে রমজানের আমল।
.

১৩৬৬ হিজরী মুতাবেক ১৯৪৭ খৃঃ এর ভয়াবহ দাঙ্গাহাঙ্গামার বৎসর রমজানের এতেকাফ মারকায নিজামুদ্দিনে হয়েছে। আমি (হযরত মাওলানা ইকবাল সাহেব) এই পবিত্র এতেকাফে শরীক ছিলাম। হযরত শায়খূল হাদীস সাহেব ২৯ শাবান আসরের সময় নিযামুদ্দীনে পৌঁছেন এবং আছরের পরেই দীর্ঘ একমাস এতেকাফের নিয়তে মারকায মসজিদে প্রবেশ করেন। ২৭ রমজান রাত ১২ টার সময় হিন্দুস্থান পাকিস্থান ভাগাভাগির ঘোষণা হচিছল। তখন হযরতজী মাওঃ ইউসুফ (রহ.) কোরআন পাক শুনাচিছলেন। অন্যরা, সবাই মনযোগ সহকারে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। হযরত মাওঃ মঞ্জুর নু’মানী সাহেব খুব ব্যাথিত অন্তরে সেদিন দোয়া করেছিলেন। এই রমজান ছিল কান্নাকাটি এবং আল্ল্লাহর সান্নিধ্যের এক অবর্ণনীয় অবস্থা। ইবাদত ও রিয়াযত মুজাহাদার এক সুন্দর পরিবেশ। সত্যিকারে তা ছিল এমন এক সুন্দর ও মনোরম দৃশ্য যা বর্ণনা করে বুঝানো যাবে না।
.
হযরতজী মাওলানা ইউসূফ (রহ.) এর এতেকাফ।
.

হযরত মাওলানা ইকবাল সাহেব বলেন, ১৩৮১ হিজরীতে রমজানের অর্ধেক রায়পুরে কাটাতে হল। সেখানে আমার শায়েখ ও মুরব্বী শায়খুল হাদীস সাহেব আসলেন সাথে অধমও ছিলাম। রমজান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হল যে অর্ধেক রমজান সাহারাণপুরে বাকী অর্ধেক রায়পুরে কাঁটবে। সে জন্য ১৫ই রমজান রায়পুরেরে যাওয়ার সিদ্দান্ত হল। কিন্তু সংবাদ আসল, হযরতজী মাওঃ ইউসুফ সাহেব ১৭ই রমজান সাহারানপুরে আসছেন। এ সংবাদ পেয়ে হযরত শায়েখের সফর মুলতবী করে ১৫ই রমজানের পরিবর্তে ১৭ই রমজান রায়পুর গমন করলেন। যখন হযরতজী ইউসুফ (রহ.) সাহারাণপুর এলেন। তখন হযরত শায়েখ (রহ.) হযরতজীর গাড়ীতে রায়পুর রওনা হলেন। রায়পুরের এই রমজান অতিবাহিত করার কয়েক মাস পর হযরতজী ইউসুফ (রহ.) ইন্তেকাল করেন। বুলবুল যেন ফুল বাগান থেকে তার বাসা সরিয়ে নিল। তারপর হযরত রায়পুরী (রহ.) পাকিস্থানে সফরকালে সেখানে তাঁর ইন্তেকাল হয়। এই উভয় বুযুর্গ ইন্তেকাল করার পর হযরত শায়খুল হাদীস সাহেব (রহ.) সাহারাণপুরে বহু বড় মাজমার সাথে এতেকাফ করা শুরু করেন।
.
হযরতজী মাওলানা ইনামুল হাসান (রহ.) এর এতেকাফ

.
মারকায নিযামুদ্দিনে হযরতজী ইউসুফ (রহ.) এর মতো হযরতজী ইনামুল হাসান (রহ.) অধিনে খুব গুরুত্তের সাথে এতেকাফ করা হতো। যেখানে তাবলীগের মুরব্বীদের বড় মাজমা হত এবং তাবলীগী মেহমানগণও সে এতেকাফে শরীক হতেন। বর্তমান রমজান অর্থাৎ ১৪০১ হিঃ এর সম্পর্কে জানতে পারলাম যে মারকায নিযামুদ্দিনে হযরতজী ইনামুল হাসান সাহেবের সাথে বহুত বড় মজমা এতেকাফ করেছে। মারকায মসজিদ এতেকাফকারীদের দ্বারা ভরপুর ছিল।

(জিকির ও এতেকাফের গুরুত্ব)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর-রাহা সেবাই আমাদের ধর্ম।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৩৫২,১৭৮
সুস্থ
২৬০,৭৯০
মৃত্যু
৫,০০৭
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
১,৫৫৭
সুস্থ
২,০৭৩
মৃত্যু
২৮
স্পন্সর: একতা হোস্ট



©Copyright 2020 Sathivai.com
Desing & Developed BY sayem mahamud