মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:১৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আল্টিমেটাম দিলো হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বাড্ডায় ইমাম ওলামা পরিষদ এর উদ্যোগে ফ্রান্স বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল পণ্য বয়কট করে নবির অবমাননার প্রতিবাদ করার আহ্বান মাওলানা তারিক জামিলের.. ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ০৮ অক্টোবর ২০২০ যাত্রাবাড়ী মদিনা মসজিদে চলবে তাবলীগের মারকাজের আমল। আজ থেকে (২৮/০৮/২০২০) চলবে শুরাই নেজামের অধীনে কাকরাইল মারকাজ মসজিদ কাকরাইল মসজিদে রুটি বানানোর মেশিনে আগুন যাত্রাবাড়ী মদিনা মসজিদে ১৪ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে তাবলিগের মারকাজের কার্যক্রম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় হামলার বিচার ও বৈধ কর্তৃপক্ষের কাছে মাদ্রাসার দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন মধুপুর পীর আল্লামা আব্দুল হামিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদপন্থীদের হামলায় আহত মাদ্রাসার নিরিহ ছাত্র ও শিক্ষকগন
এতায়াতী ভাইদের এক আজীব দাবী ও আমির শুরা প্রসঙ্গে কিছু গলদ ধারনা

এতায়াতী ভাইদের এক আজীব দাবী ও আমির শুরা প্রসঙ্গে কিছু গলদ ধারনা

সাথীভাই নিউজ ডেস্কঃ শুরায়ী নেজাম তথা পালাক্রম শুরার পক্ষে সুন্নাত ও সিরাত থেকে ‘হুবহু’ প্রমাণ নেই, এজন্যই এটা বিদআত,কুফরী!!!আজীব দাবি!! শুরায়ী নেজামে শুরার মধ্যে কি আমীর থাকে না? যখন যিনি আমীর থাকেন তার আধীনেই তো শুরা থাকে।কিন্তু এতাতী ভাইয়েরা গোঁ ধরেছেন যে শুরা এবং শুরার মধ্যে একজন আমির থাকলেই চলবে না,বরং ইসলামী হুকুমতের আমীর/খলিফার মতো “সার্বক্ষণিক একজন” আমিরই থাকা চাই!!আবদার বটে!!

আচ্ছা বলুনতো, খলিফা এবং দ্বীনি মেহনতের জিম্মাদার কি ‘হুবহু’ এক জিনিস? দল-মত নির্বিশেষে সব মুসলমানদের জামাত এবং কোন একটি দ্বীনি সংগঠন তথা জামাতের শরয়ী হুকুম কি একই? মওদুদী সাহেবের মত কিছু আজাদ-খেয়ালের লোক বাদে হাদীসে বর্ণিত ‘জামাত’ এবং ‘আমির’ এর শরয়ী হুকুমকে কোন দ্বীনি সংগঠনের জন্য প্রযুক্ত করার ইতিহাস ইসলামে আছে কি? আমিরের আনুগত্য থেকে বিনা ওজরে এক বিঘত বের হয়ে মৃত্যু হলে জাহেলিয়্যাতের মৃত্যুর ধমকির কথা হাদীসে এসেছে; কিন্তু কেউ যদি সাদ সাহেবের আনুগত্য তো দূরের কথা, তাবলীগ জামাতই ত্যাগ করে,তবে কি তার জাহেলিয়্যাতের মৃত্যুর ফতোয়া দেয়া যাবে?হাদীসে বর্ণিত আছে, “…..তোমরা আমিরের কথা শুনবে এবং আমিরের এতায়াত করবে যদিও তোমার পিঠে আঘাত করা হয় এবং তোমার মাল ছিনিয়ে নেয়া হয়…”(মুসলিম)। কোন দ্বীনি জামাতের আমির যদি তার সাথীদের মারধর করে এবং তাদের মাল ছিনিয়ে নয়,তাহলে সেই আমির কি এতায়াতের উপযুক্ত থাকবেন?বস্তুত,ইসলামী হুকুমতের আমীর(এমারতে কুবরা) এবং দ্বীনি জামাতের আমির (এমারতে সুগরা)’র পার্থক্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট। দুটিকে একই সাব্যস্ত করা এবং দ্বীনি জামাতের জন্য ‘সার্বক্ষণিক একক আমির’ থাকা জরুরী দাবী করা বরং নিজেই একটি বিদআত।

এতায়াতি ভাইয়েরা কথায় কথায় তিনজনের সফরে একজন আমিরের উদাহরণ দেন।বলুনতো, তিনজন মুসাফির যদি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় তাদের মধ্যে একজনকে আমির বানিয়ে নেয় এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ফেরত আসার সময় অন্য একজনকে আমির বানায়—-তবে কি সেটা নাজায়েজ হবে?তাছাড়া,সফরে আমির নিযুক্ত করার নির্দেশও ফিক্বহী দৃষ্টিতে মুস্তাহাব,ফরজ বা ওয়াজিব নয়।নিজের ঘরের কথাই ধরুন; ঘরের মাশওয়ারায় একদিন বাবা জিম্মাদার,পরের দিন ছেলে পালা করে জিম্মাদার থাকলে কি গুণাহ হবে।

এতাতী ভাইদের আরো একটি উদ্ভট দাবি হলো ইসলামে নাকি আমির বিহীন শুরার নজীর নেই।হায়রে অজ্ঞতা! উমর ফারুক (রা:) পরবর্তী খলিফা নিয়োগের জন্য ছয় সদস্য বিশিষ্ট ‘আমির বিহীন’ একটি শূরা বানিয়ে ঐ ছয় জন সাহাবীদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্টের রায়ের ভিত্তিতে খলিফা নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।ভাবুন,খলিফা নিয়োগের মত মস্তবড় একটা দায়িত্বের জন্য উমর (রা:) শুরা বানালেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে প্রাধাণ্য দিলেন, এমনকি উভয় দিকে রায় সমান হলে কি করতে হবে তাও বলে দিলেন,তবুও এই শুরার কোন আমির নিজেও বানান নি,শুরা-সদস্যদেরকেও নিজেদের আমির বানিয়ে নিতে বলেন নি।এই পদ্ধতিকেও গণতান্ত্রিক শিরক, কুফর বলবেন? উমর (রা:) এর সুন্নতের বুঝ বা সুন্নত অনুসরণের জজবা কি কম ছিল? হাদীসে কি খোলাফায়ে রাশেদীনের পদাংক অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয় নি?শুরার সদস্য ছয় জন বিশিষ্ট সাহাবী কি আমির নিয়োগের সুন্নাত সর্ম্পকে অজ্ঞ ছিলেন?’হুবহু’ সুন্নত অনুসরণের নাম দিয়ে এস্তেমায়ীয়াতকে লন্ডভন্ড করে দেয়া হয়েছে। অথচ,এস্তেমায়ীয়াত রক্ষা করা ওয়াজিব ছিলো। তাবলীগ জামাতের পাঁচ কাজ, চিল্লা,বার্ষিক ইজতেমা—কোনটি ‘হুবহু’ সুন্নত?দাওয়াতের আমল কুরআন-সুন্নাহ-সীরাত থেকে প্রমাণিত,কিন্তু দাওয়াতের কোন সুনির্দিষ্ট ‘তারতীব’ শরীয়ত নির্ধারণ করে দেয়নি।তদ্রুপ,মাশোয়ারা করা এবং আমির নিযুক্ত করা কুরআন-সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত হওয়ার পর দাওয়াতের মেহনতের জন্য ‘সার্বক্ষণিক’ একজন আমির থাকা সীরাত থেকে ‘হুবহু’ প্রমাণিত হওয়া জরুরী নয়।
একক আমির না থাকা যদি কুফরী হয়,তবে গত প্রায় বিশ বছর ধরে দেশে-দেশে, জেলায়-জেলায়, থানায়-থানায়, মসজিদের মাশয়ারায় কেন একক আমিরের পরিবর্তে পালাক্রম শুরা সিষ্টেম চলছে?বাংলাদেশের আমীরই বা কে ছিলেন?১৯৯৯/২০০০ সালে একক আমিরের পরিবর্তে পালাক্রম শুরা প্রবর্তনের যে ফায়সালা হয়, খোদ সাদ সাহেব তাতে প্রত্যক্ষ অংশীদার ছিলেন।১৯৯৫ সালে মিয়াজী মেহরাব সাহেব (এতাতি ভাইদের দাবি মোতাবেক) যদি একসাথে তিন জন আমিরের ফায়সালা করেই থাকেন,তবে ‘হুবহু’ একক আমিরের ফায়সালা না হওয়ার কারণে সেটাও কি কুফরী ফায়সালা ছিলো না? সাদ সাহেব সহ অন্যান্য শুরাদের কারো মধ্যে কি এই কুফরী ফায়সালার বিরোধিতা করার মতো ঈমাণ ছিলো না?এবার বলুনতো, এই মুহুর্তে বাংলাদেশে আপনাদের ‘সার্বক্ষণিক একক আমির’ আছে নাকি শুরার মধ্যে পালাক্রমে একজন আমির থাকে? কি অদ্ভুত স্ব-বিরোধিতা!

কারো একক আমীর হওয়া যে এই ক্রমপ্রসারমান বিশাল মেহনতের জন্য ‘নিরাপদ’ নয়, চলমান দু:খজনক অবস্থাই তার প্রমাণ।একক আমিরের স্বেচ্ছাচারিতার এই সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরেই হযরতজী মাওলানা এনামুল হাসান রহ.,মাওলানা যাকারিয়া রহ. ও অন্যান্য মুরুব্বীদের পরামর্শে একক আমীরের পরিবর্তে ‘পালাক্রম ফায়সাল’ ভিত্তিক শূরা গঠন করেন।
সারকথা হলো, ‘অত্যাবশ্যক’ একক এমারত কেবলমাত্র ইসলামি হুকুমতের আমীর বা খলিফার জন্য প্রযোজ্য।অর্থাৎ, ইসলামী খেলাফতের ক্ষেত্রে নিয়ম হল, আমীর এবং তার সহযোগিতার জন্য শূরা।এছাড়া অন্য যে কোনো দ্বীনী কাজে আমীরের পদ্ধতি এবং শূরার পদ্ধতি দুটোই মুবাহ/বৈধ।যেমন: মাদরাসা-মসজিদ পরিচালনা,যে কোন ইসলামী সংগঠন পরিচালনা, রোজানা মসজিদে বা পরিবারে মাশওয়ারা পরিচালনা ইত্যাদি।আল্লাহ তাআলার ইরশাদ –

وَلَاتَقْفُمَالَیْسَلَكَبِهٖعِلْمٌ اِنَّالسَّمْعَوَالْبَصَرَوَالْفُؤَادَكُلُّاُولٰٓىِٕكَكَانَعَنْهُمَسْـُٔوْلًا.
“যে বিষয়ে তোমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই তার পেছনে পড়ো না। জেনে রেখো, কান, চোখ ও অন্তর এর প্রতিটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে”। -সূরা বনী ঈসরাইল (১৭) : ৩৬

সাদ সাহেব যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্ব্যর্থহীনভাবে ভারতেরই আমির নির্বাচিত হন নি,পুরো বিশ্বের আমির হওয়া তো দূরের কথা।কেননা,১৯৯৫ সালের পর হারামাইন শরীফ এবং রাইবেন্ডে সাদ সাহেবের উপস্থিতিতেই “আলমী মাশওয়ারায়” সাঈদ আহমাদ খান(রহ),মুফতী জয়নাল আবেদীন(রহ),হাজী আবদুল ওয়াহাব(রহ) প্রমুখ ফায়সালা দিয়েছেন।এতে প্রমাণ হয় মাওলানা সাদ সাহেব,মাওলানা জুবাইর রহ. ও মাওলানা ইযহারুল হাসান রহ. ‘বিশ্ব আমীরের প্যানেল’ ছিলেন না বরং অন্যদের মত সাধারণ শূরা ছিলেন।অতএব বাকি দুইজনের ইন্তেকালে সাদ সাহেবের অটো আমির হওয়ার সুযোগ নেই।
কাগজে-কলমে, সাক্ষী-সাবুতে সাদ সাহেবকে আমীর প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়ে এতায়াতী ভাইয়েরা বলে চলেছেন ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমায় আরব-আজমের অনেক দেশের উলামায়ে কেরাম ও শূরার সাথীরা মাওলানা সাদকে ‘যথাযথ সুন্নাত তরীকায়'(!) তাদের আমির হিসেবে নির্বাচন করেছেন।দাওয়াত ও তাবলীগের ইতিহাসে এই প্রথম ‘আমিরুল মুমিনীন’ নিয়োগ দেয়া হলো!এতায়াতী বন্ধুরা ভুলে যাচ্ছেন, দাওয়াত ও তাবলীগ কোন খেলাফত নয়,বরং একটি দ্বীনি মেহনত।এখানে মাশোয়ারার হক আদায় করতে হয়,কেননা মাশোয়ারা এই মেহনতের মেরুদন্ড। মাওলানা ইউসুফ রহ. এবং মাওলানা এনামুল হাসান রহ. কি এভাবে আমির তায় হয়েছিলেন?

প্রথমে তো এই ফায়সালার জন্য মাশোয়ারা হোক যে শূরা সিস্টেম বহাল থাকবে নাকি এমারতী সিলসিলা পুনরায় চালু হবে।এই মেহনতের ইতিহাসে এমন কোন নজীর আছে কি যেখানে কোন দেশের,কোন জেলার, কোন থানার, কোন ইউনিয়নের এমনকি কোন ক্যাম্পাসের আমির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবীণ মুরুব্বী ও সাথীদের অনুপস্থিতিতে তায় হয়েছে?দুই একজন পুরনো সাথী সহ সাধারণ সাথীদের একদল এক জায়গায় একত্র হয়ে বলল ‘অমুক আমাদের আমির’, আর তাতেই তিনি আমির বনে গেছেন কখনো?ভারত,পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বীদের তুলনায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুরুব্বীরা তো সাধারণ সাথীই।

যেখানে তাবলীগী নেসাবের নাম পরিবর্তন করে ফাজায়েলে আমল রাখার জন্য তৃতীয় হযরতজী সারা বিশ্বের প্রায় সব শূরার পরামর্শ নিয়েছেন, সেখানে পুরো বিশ্বের আমীর নির্বাচনের মজলিশে পাকিস্তানের সাথীই ছিল না, এমনকি নিজামুদ্দীনের শীর্ষ মুরুব্বীরা ও অনেকে উপস্থিত ছিলেন না;বাংলাদেশের মাওলানা যুবায়ের ও মাওলানা ওমর ফারুক সাহেব ও উপস্থিত ছিলেন না। তৃতীয় হযরতজীর বানানো শূরার মধ্যে একমাত্র জীবিত সদস্য হাজী আবদুল ওহাব সাহেব(সাদ সাহেব ব্যতীত) এর মতামতের ও কোন গুরুত্ব নেই!

সাদ সাহেব শুরা মানবেন না। কারণ, শুরা তো তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে।তিনি তার যেটা বুঝে আসবে সেটাই বলবেন এবং সেটাকে সীরাতের শিক্ষা হিসেবে চালিয়ে দিবেন। কিন্তু, শুরার মধ্যে বড় বড় আলেম আছেন। সেখানে তার উসতাদরা রয়েছেন।কেউ কেউ তার পিতারও উসতাদ। তাঁরা তার ভুল কথা মানবে না।
এজন্য তিনিও শুরা মানবেন না।

এতাতী ভাইদের একটা common কূটকৌশল হলো: “বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব নাই তো উলামাদের বিষোদগার শুরু করে দাও,offence is the best defence!!”।
আমরা কবে দাবী করেছি যে সব আলেমই ১০০% খাঁটি।
এই কমি-খামি সহই তো উনারা আমাদেরকে লা-মাযহাবী, বেদাতী,মওদুদী ফেতনা সহ অসংখ্য ফেতনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তারও আগে থেকেই তো উনারা তালিমের বিনিময় নিতেন।আর এখন!! আলেমদের দোষের কথা শুনলে এত্ত ভালো লাগে উনাদের!বেচারাদের এটাও মনে থাকে না যে সাদ সাহেব নিজেও একজন মাদ্রাসা পড়ুয়া।সাদ সাহেবে বেহুশ হওয়ার আগে এরাই তো আলেমদের দোষ গোপন করে রাখতো।এখন এরা আলেমদের একান্ত ব্যক্তিগত দোষ-ত্রুটিও social media গুলোতে ছেড়ে দিতে এতটাই তৎপর যে ইসলাম বিদ্বেষী চক্রগুলোও মনে হয় হাঁফ ছেড়ে বেচেঁছে।অথচ অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগটাই হয়তো সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় নি, আবার এদের সবাই যে আলেম তাও নয়।

মজার ব্যাপার হলো,কোন আলেমের দোষ পাওয়া গেলে এতাতীদের খোঁজ নেয়া লাগে না যে তিনি এতাতী কি না।কেননা,মন্দ আলেম হোক অথবা ভালো,হাতেগোণা কয়েকজন বাদে সবাই ‘বিস্বাদ পন্থী’! এদিকে আমাদের ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, মুফতী ইজহার সাহেবরা তো জমীনের উপর সাহাবায়ে কেরামের বাস্তব নমুনা !! দুনিয়া কি জিনিস সেটা জানেনই না!!সাদ সাহেবের ব্যাখ্যা মোতাবেক উনারা তালিমের বিনিময় নেন না,সময়ের বিনিময় নেন; আর সাদ সাহেবের সমালোচক আলেমগণ যখন মাদ্রাসায় পড়ান তখন সময় জিনিসটা উধাও হয়ে যায়!! এখন বেদাতীরাও সাদ সাহেবের রেফারেন্সে কুরআনখানির বিনিময় নিয়ে দাবী করতে পারে যে তারা কুরআন পড়ার বিনিময় নেয় না বরং ‘কুরআন পড়ার সময়ের’ বিনিময় নেয়!

দারুল উলুম দেওবন্দ পাকড়াও করার পর থেকে সাদ সাহেব ‘সময়’ কে সামনে আনতে বাধ্য হয়েছেন।নচেৎ,উনি তো ২০১৬ সাল থেকেই প্রকাশ্যে বলে চলেছেন যে, যে সব আলেম শিক্ষকতার সাথে সাথে ব্যবসা করেন না,তারা নিকম্মা অর্থাৎ অকর্মণ্য।অথচ, মাওলানা যাকারিয়্যা (রহ.) সহ অনেক আকাবিরে দেওবন্দ মাদ্রাসায় ঐ সব শিক্ষক নিয়োগ দিতে নিষেধ করতেন যাদের শিক্ষকতা ছাড়া উপার্জনের অন্য ধান্ধা আছে।এমনকি ধনী হলেও বেতন নিতে বাধ্য করার সুপারিশ করতেন।মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) সহ প্রায় সব আকাবিরে দেওবন্দই সবেতনে মাদ্রাসায় পড়াতেন।

সাদ সাহেব প্রথমে বললেন ,আলেমদের বিনা বেতনে পড়ানো চাই, প্র‍য়োজনে ব্যবসা করবে,যে সব আলেম ব্যবসা করে না তারা অর্কমণ্য,পরে একধাপ এগিয়ে বলে বসলেন তালিমের বিনিময় নেয়া নাজায়েজ! সীরাতে এর দলিলও খুঁজে নিলেন!

আসুন দেখি তালিমের বিনিময় প্রসংগে সীরাত কি বলে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো যে হযরত উমর (রা:)’র রেফারেন্সে কোরআনের তালিমের বিনিময় নেয়া নাজায়েজ বলা হলো,সেই উমর(রা:)ই ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম কুরআনের বেতনভুক্ত মুয়াল্লিম নিয়োগ করেন।এই উমর (রা:)ই নির্দিষ্ট সংখ্যক মুজাহিদ সাহাবায়ে কেরামকে চাষাবাদ,ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে বিরত রাখতেন এবং
বেতনের বিনিময়ে জিহাদের জন্য প্রস্তুত রাখতেন। খোলাফায়ে রাশেদীনদের মধ্যে উসমান(রা:) বাদে বাকী তিন জন খেলাফত পরিচালনা জন্য সম্মানী-ভাতা নিতেন।উসমান(রা:) পূর্ব থেকেই ধনী হওয়ার কারণে ভাতা নিতেন না।এতগুলো সহীহ রেওয়ায়েত অগ্রাহ্য করে সাদ সাহেবের পছন্দ হলো উমর(রা:) সূত্রে বর্ণিত একটি জাল বর্ণনা যাতে উল্লেখ আছে যারা কুরআনের তালিমের বিনিময় নেয় তাদের আগে পতিতা নারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে!!

হাদীসেও জিহাদের উপার্জনকে সর্বোত্তম রিজিক বলা হয়েছে। আবু হুরায়রা(রা:)থেকে বর্ণিত,রসূল (সা:) বলেন, “লোকদের মধ্যে সবচে’ উত্তম জীবিকা হলো,আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী এমন মুজাহিদ যে ঘোড়ার লাগাম মুঠোয় নিয়ে তার পিঠে চড়ে দৌঁড়ে বেড়ায়…..” (মুসলিম: ৪৮৬৬)। কাজী ইয়াজ (রহ.) বলেন,এই হাদীস থেকে বুঝে আসে যে,অর্থোপার্জন ও জীবিকা সংগ্রহের নিয়্যতে জিহাদ করা ও মালে গনীমত উপার্জন করা সওয়াব ও আখিরাতে পুরস্কারের পরিপন্থী নয়,তবে আসল উদ্দেশ্য জিহাদই হতে হবে।(ফাতহুল মুলহিম:৯/৩৪৮,আল্লামা শিব্বীর উসমানী রহ./আল্লামা তাক্বী উসমানী দা.বা)।দ্বীনি তালিম এক ধরনের উত্তম জিহাদ; অতএব এলেমের খেদমতের বিনিময়ও যে উত্তম রিজিক হবে তাতে সন্দেহের কি আছে?

সমালোচনা শুরু হওয়ার পর সাদ সাহেব বলা শুরু করলেন, তালিমের নয় বরং সময়ের বিনিময় নেয়া জায়েজ আছে।অথচ কোন মাজহাবেই এই ‘সময় তত্ত্ব’ প্রাধাণ্য পায় নি,বরং ফিক্বহের কিতাবাদিতে সরাসরি তালিমের বিনিময়,সম্মানী এই শব্দগুলোই উল্লেখ আছে।হাদীসের ভান্ডারেও ‘সময় তত্ত্বের’ দেখা পাওয়া যায় না।ফুক্বাহায়ে কেরাম যে হাদীসগুলোর মাধ্যমে দলীল পেশ করেন তার দু’একটি উল্লেখ করছি।

মুসলিম শরীফের একটি হাদীসের অংশ বিশেষ,”এক সাহাবী এক নারীকে বিবাহের ইচ্ছা করলেন।রসূল(সা.) বললেন,তোমার কাছে মোহরের অর্থ আছে?সাহাবীর কাছে কিছুই ছিল না।রসূল(সা.) জিজ্ঞেস করলেন,তুমি কি কুরআন পড়তে পারো?সাহাবী নিবেদন করলেন, জ্বি, পারি।রসূল(সা.) তখন বললেন,ঠিক আছে।তুমি ঐ মহিলাকে কুরআন শিখিয়ে দিবে,এটাই তোমার মোহর”। অন্য এক হাদীসে মোহরের বিনিময়ে বিশ আয়াত শিক্ষা দেওয়ার কথা আছে।অপর এক হাদীসে বর্ণিত আছে,”তোমরা যে সব কাজের জন্য সম্মানী গ্রহণ করে,সেগুলোর মধ্য হতে পারিশ্রমিকের সর্বাধিক হকদার হলো আল্লাহর কুরআন”।

এই হাদীস গুলো কেন সাদ সাহেবের নেক নজর থেকে বঞ্চিত হয়ে গেল? এটা কি সাদ সাহেবের অজ্ঞতা না স্বেচ্ছাচারিতা! সাদ সাহেব উবাই বিন কাব(রা:) এবং উবাদা বিন সাবিত(রা:) এর সূত্রে বর্ণিত হাদীস গুলো দিয়ে দলীল উপস্থাপন করেন যে হাদীস গুলোতে ইলমে দ্বীন এবং কুরআন শিক্ষার বিনিময় গ্রহণ করাকে আগুণ গ্রহণ করার নামান্তর বলা হয়েছে। অথচ মুজতাহিদ ইমাম এবং আকাবির উলামায়ে কেরাম শত শত বছর পূর্বেই এই হাদীসগুলোর প্রয়োগস্থল নির্ধারণ করে দিয়েছেন।উনারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যে দ্বীন শিখানো, কুরআন পড়ানো, এবং ইমামতি ও বয়ানের সম্মানী নেওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ।এতে বিন্দুমাত্র কারাহাত(অপছন্দনীয় হওয়া) নেই।কিন্তু শর্ত হলো কাজের পরিমাণ ও সময় পূর্ব নির্ধারিত হতে হতে হবে।স্পষ্টতই উবাই বিন কাব(রা:) এবং উবাদা বিন সাবিত(রা:) এর সূত্রে বর্ণিত হাদীস দুটিতে এই শর্ত রক্ষিত হয় নি বিধায় রসূল(সা:) কুরআন পড়ানোর বিনিময়ে তীর-ধনুক গ্রহণ করাকে নাজায়েজ সাব্যস্ত করেছেন।মজার ব্যাপার হলো, যাদের সূত্রে ‘তীর-ধনুক’ সম্পর্কিত হাদীসগুলো বর্ণিত হয়েছে সেই উবাই বিন কাব(রা:) ও উবাদা বিন সাবিত(রা:) কে উমর(রা:) সিরিয়ায় কুরআনের ‘বেতনভুক্ত’ মুয়াল্লিম হিসেবে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।অতএব,বুঝা গেল উপরোক্ত শর্তে দ্বীনি তালিমের বিনিময় নেয়া তাকওয়ার পরিপন্থীও নয়।
সাদ সাহেব তালিমের বিনিময় নেয়ার বিপক্ষে দলীল দেয়ার পাশাপাশি সম্পূর্ণ ‘স্ব-বিরোধীতা’র আশ্রয় নিয়ে কখনো কখনো বলেছেন জরুরতবশত সম্মানী গ্রহণ করা যাবে,যেন সুযোগ মতো এটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়।মওদুদী সাহেবের বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ করা হয় তিনি সাহাবায়ে কেরাম সম্বন্ধে কটুক্তি করেছেন,তখন তারা ভক্তকুল জবাব দেয় যে তিনি তো শানে সাহাবা সম্পর্কে বইও লিখেছেন! এ যেন গাছের গোঁড়া কেটে আগায় পানি ঢালা।সাদ সাহবের বয়ানের ঢঙে এতাতীদের এমন মানসিকতা গড়ে উঠেছে যে তারা নিজেরাই এখন
সাদ সাহেবের ‘জরুরতবশত তালিমের সম্মানী নেয়া যায়’ ——-এই স্ব-বিরোধী কথাটা বিশ্বাস করে না।

সাদ সাহেবের পাঁড় ভক্তরা কখনো বলে, ‘তালিমের বিনিময় নেয়া নাজায়েজ, বিনিময় ও নেকী একত্র হয় না’, কখনো বলে ‘দ্বীন শিখানোর বিনিময় হয় না,বরং সময়ের বিনিময় নেয়া যায়’, কখনো বলে ‘তালিমের বিনিময় নেওয়া যাবে না,হাদিয়া নেয়া যাবে!’,কখনো বলে ‘তালিমের সম্মানী নেয়া যাবে কিন্তু লজ্জার সাথে নিতে হবে’। কথা যত রকমই হোক,উদ্দেশ্য হলো উলামায়ে কেরামকে বনী ইসরাইলের আলেমদের মতো ‘দুনিয়াবী স্বার্থের জন্য দ্বীন বিক্রি করনেওয়ালা সাব্যস্ত করা’। কত বড় ফেতনা!উলামাদের উপর ‘দ্বীন বিক্রেতা’ অপবাদ দিয়ে তাদের উপর থেকে আওয়ামদের আস্থা তুলে দেওয়ার এই ফেতনার নজীর ইসলামের ইতিহাসে আছে কি?কতটা দু:খজনক যে তারা কুরআন মাজীদ থেকে মন-গড়া দলীলও পেশ করে।যেমন-সূরা বাক্বারার ৪১ নং আয়াত: ‘তোমরা তাঁর আয়াতের তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না’।অথচ এই আয়াতেরই প্রাসংগিক ব্যাখ্যায় মুফাসসিরীনে কেরাম উল্লেখ করেছেন যে দ্বীনি তালিমের বিনিময় নেওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ।

তালিমের সম্মানী গ্রহণ করা যে নাজায়েজ হতে পারে সাদ সাহেবের এ সম্পর্কিত বয়ানগুলোর পূর্বে তা হয়তো কোন তাবলীগওয়ালার দূরতম কল্পনাতেও ছিল না।এই রকম সুস্পষ্ট বিষয়েও যে এতায়াতী ভাইদের অনেকেই সাদ সাহেবের বয়ান দ্বারা ধোঁকা খেয়ে গেছেন তার কারণ হতে পারে:
১)শরীয়তের উপর সাদ সাহেবের ব্যক্তি-সত্তার মুহাব্বত গালেব হওয়া।মাওলানা ইলিয়াস(রহ) এর বংশধর না হলে সাদ সাহেবের পক্ষে কি এত মাতামাতি হতো?একই ভুল যদি আহমাদ লাট সাহেব বা ইব্রাহিম দেওলা সাহেব করতেন তবে কি এতাতী ভাইয়েরা তাদের সমর্থন করতেন? এটা হাদীসে নিষিদ্ধ সেই বংশকেন্দ্রিক আসাবিয়্যাত নয় তো?
২)কথায় কথায় সাদ সাহেবের কসম খাওয়া।সাদ সাহেবের ব্যক্তিসত্তার মুহাব্বতের সাথে সাথে বার বার কসম যুক্ত হওয়ায় এতায়াতী ভাইয়েরা সাদ সাহেবের দলীলের দূর্বলতাকে ইলমে লাদুন্নী মনে করে বসেছেন।

সাদ সাহেব প্রমাণ করে দিয়েছেন যে সীরাতের জাল-যয়ীফ-সহীহ রেওয়ায়েত সম্বন্ধে তিনি যেমন পূর্ণ ওয়াকিবহাল নন,তেমনি হাদীস এবং ফিক্বহশাস্ত্রেও উনার প্রশস্ত জানা-শোনা নেই।এই কারণেই শরীয়তের উৎস থেকে বাতিল পন্থায় দলীল আহরণের মাধ্যমে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় উনার পক্ষ থেকে শরীয়তের বিকৃতি ঘটে চলেছে।
অতএব, শুরার নিয়ন্ত্রণে না রাখলে উনি যে মওদুদী সাহেবের মতো ‘নতুন ইসলাম’ পেশ করবেন তা তো বলাই বাহুল্য। মওদুদী সাহেবেরটা ছিল ‘রাজনীতির ইসলাম’, আর সাদ সাহেবেরটা হলো ‘খুরুজের ইসলাম’।মওদুদী সাহেব রাজনীতিকে সব ফরজের বড় ফরজ বলতেন, আর হযরতজী খুরুজ না হওয়াকে চুরি,জিনার চেয়েও বড় গুণাহ বলেন।দলীল ও দিলেন বড়ই আশ্চর্য রকম! তাবুকের যুদ্ধে উবাই বিন কাব এবং অন্য দুইজন সাহাবীর অনুপস্থিত থাকার জন্য রসুলুল্লাহ(সা:) যে তাদেরকে বয়কট করেছিলেন,তার সাথে ক্বিয়াস করে তাবলীগি খুরুজকেও ফরজে আইন বানিয়ে দিয়েছেন।তাবুকের যুদ্ধ যে ফরজে আইন ছিল সেটাও কি জানতে নেই!

সাদ সাহেব বলেন,”আল্লাহু আকবার।কাব বিন মালেক(রা:) এর ঘটনা মানুষ শুনেও না,বয়ানও করে না।আর না এর দ্বারা দাওয়াতের নকল ও হরকতের গুরুত্ব বুঝে•••••যদি একবারও বলে থাকো যে,আজ নয় কাল যাবো তাহলে তোমার সাথে আল্লাহর অসন্তুষ্টির ব্যবহার কাব বিন মালেক(রা:) এর মতো হবে••••”[বয়ানের তারিখ: ১-১২-২০১৮ ও ২-১২-২০১৮,বাদ মাগরিব, বুলন্দশহর ইজতেমা,সর্বশেষ রুজুর পর]।মাত্র দু’একটি উদাহরণ পেশ করা হলো।শুধুমাত্র ২০১৮ সালেই সাদ সাহেব গোটা বিশেক গুরুতর ভুল করেছেন।আশা করি এতাতী বন্ধুরা এগুলোকে কাটপীস বলার হিম্মৎ করবেন না।কেননা,সাদ সাহেবের পূর্ণ বয়ানগুলো এখন খোদ এতায়াতীদের ইন্ডিয়ান ওয়েব সাইটে পাওয়া যায়।

অথচ দাওয়াত ও তাবলীগের এই মুবারক মেহনতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উসূল ছিল মিম্বর থেকে এখতেলাফী কথা সহীহ হলেও তা বয়ান না করা এবং মাসলা-মাসায়েল উলামাদের কাছে সোপর্দ করা।স্বল্পজ্ঞানী লোকের মুজাদ্দিদানা হাব-ভাব কত বড় ফেতনার জন্ম দিতে পারে ইসলামের ইতিহাসে তার নজীর কম নয়।

এতায়াতী ভাইদের খেদমতে নিবেদন হলো: সাদ সাহেবকে আমীর যদি মানতেই হয়,তবে তার জন্য উলামাদের বিষোদগার করা ও শুরায়ী নেজামকে কুফরী,বেদআত সাব্যস্ত করা কি এমন জরুরী কাজ!এতে তো দূরত্ব আরো বাড়তে থাকবে। মেহনত দুই ভাগ হওয়া তেমন বড় সমস্যা নয়, কত ইসলামী দলই তো দুই ভাগ হয়ে যে যার মতো মেহনত করছে। সাদ সাহেব হাজারো ভাল কথা বলেছেন, সেগুলো প্রচার করি।হক স্পষ্ট হওয়ার পরও তা স্বীকার না করে বরং উনার ভুলের পক্ষে সাফাই পেশ করা কি অহংকার নয়?
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।

লিখনেঃ ডা:মাসউদ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর-রাহা সেবাই আমাদের ধর্ম।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৪৪৮,৪১৩
সুস্থ
৩৬২,৬৯০
মৃত্যু
৬,৩৮৮
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,৪১৯
সুস্থ
২,১৮৩
মৃত্যু
২৮
স্পন্সর: একতা হোস্ট



©Copyright 2020 Sathivai.com
Desing & Developed BY sayem mahamud