শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
আজ (১৭ জুলাই ২০২০) থেকে শুরু হলো শুরাঈ নেজামের অধিনে কাকরাইল মারকাজের আমল যাত্রাবাড়ী মদিনা মসজিদে ০৩ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে শুরাই নেজামের তাবলিগের কার্যক্রম সাদ সাহেবের ভুলের পরিমাণ নয়, ভুলের কোয়ালিটির দিকে নজর দিন! আমাদের হযরতজিরা কেমন ছিলেন? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ আফজাল ইন্তেকাল করেছেন। সিলেটের প্রখ্যাত আলেম শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুস শহীদ গলমুকাপনী ইন্তেকাল করেছেন করোনা মহামারীতে ছুটিতে থাকা মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন দিতে হবে: দেওবন্দের ফতোয়া মাওলানা নজরুর রহমান সাহেব (দাঃবাঃ) মৃত্যুর সংবাদটি মিথ্যা। তবে উনি অসুস্থ। কোকাকোলা (মঈনুল ইসলাম) মাদরাসায় সাদপন্থীদের হামলার প্রতিবাদ ও রক্ষা এগিয়ে আসার আহ্বান ইত্তেফাক মহাসচিবের ৭০ দিন পরে অবশেষে কাকরাইল মার্কাজ থেকে বের হলো সাদপন্থীরা
আপনিই সিদ্ধান্ত নিন ব্যক্তি নিযামের সাথে থাকবেন নাকি শুরায়ি নিযামের সাথে?

আপনিই সিদ্ধান্ত নিন ব্যক্তি নিযামের সাথে থাকবেন নাকি শুরায়ি নিযামের সাথে?


بِسْــــــــــــــمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْـــــم

সাথীভাই নিউজ ডেস্কঃ মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা এবং মাওলানা আহমাদ লাটসহ আলমি আহলে শুরার মাশওয়ারা ক্রমে ইন্ডিয়ার আলিগড় থেকে বাংলাদেশে একটি জামাত পাঠানো হয় ৷ উক্ত জামাতের সাথী এবং চলমান সংকটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বড় বড় সব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুফতি উবাইদুল্লাহ কাসেমি দা. বা. বিভিন্ন হালকা ও মার্কাযে চলমান তাবলিগি সংকট নিয়ে খুবই দামি বয়ান করেছেন ৷ যদ্বারা হকপন্থী কারা— ইমারতপন্থী নাকি শুরাপন্থী— তা সবার সামনে দিনের আলোর মতই স্পষ্ট হয়ে ওঠে ৷


তিনি গত ২৬/৭/২০১৮- তে মদিনা মসজিদ অর্থাৎ যাত্রাবাড়ী মার্কায মসজিদে যে বয়ান করেছিলেন তার চুম্বকাংশ নিচে তুলে ধরছি:

☞ ১৯৯৫ এর ১০ জুন ৩য় হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব ইন্তিকাল করেন ৷ এরপর আলমি শুরার ১ম মজলিসে মিয়াজি মিহরাব সাহেব র. ফয়সাল নিযুক্ত হন ৷ তাতে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়—
১. মেহনত চলবে শুরা অনুযায়ী ৷
(বয়ানকারী বলেন, বর্তমানে যারা ইমারতের দাবিদার রায় প্রদানের ক্ষেত্রে শুরায়ি নেযামের পক্ষে তাদের জোর দাবি ছিল ৷)
২. নিযামুদ্দিনে কাউকে বাইআত করা যাবে না ৷
☞ তাবলিগি বয়ানে নতুন নতুন তাফসির তাশরিহ ও মাসায়েল ছিল না ৷ বড়রা দিলের দরদের সাথে কুরআন হাদিসের আলোকে সাধারণ সাধারণ বয়ান করতেন ৷ তা-ই শুনে সাথীদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যেত ৷
মাও. সাদ সাহেব শুরু থেকেই ইলম ও অভিজ্ঞতার স্বল্পতাবশত আপত্তিকর বয়ান করতেন ৷ যেমন, গাফলতের সাথে আল্লাহর নাম নেয়া হারাম ৷ ইত্যাদি ৷ এযাবৎ তার বয়ান হতে ৮৬ টা জায়গা আপত্তিকর বলে চিহ্নিত হয়েছে ৷

☞ হিন্দুস্তানে প্রতিকুল পরিস্থিতির কারণে আলমি মাশওয়ারা করা সম্ভব হত না ৷ হত টঙ্গি রায়বেন্ড বা হজের মৌসুমে মক্কা-মদিনায় ৷

☞ সাদ সাহেব ১৫/১৬ টির মত কাজ নিজ সিদ্ধান্তে শুরু করেন ৷ যেমন, মুন্তাখাবের তালিম মাস্তুরাতের পাঁচ কাজ, দাওয়াত তালিম ইস্তেগবালের মেহনত ইত্যাদি ৷

☞ হাজি আ. ওয়াহহাব সাহেব বলেন, বড়দের রেখে যাওয়া রীতি অনুযায়ী শুধু ফাযায়েলের কিতাবগুলোর তালিম হবে ৷ কিন্তু সাদ সাহেবের মেজায হল, যা মনে আসবে তাই বাস্তবায়ন করবেন ৷

☞ মার্কায নয়, মাশওয়ারা আসল ৷ বড়রা যেখানে জমবেন, সেখানে মাশওয়ারা ও ফয়সালা হবে ৷ (অতএব, ইতাআতে নিযামুদ্দীন একটা বোগাস)

☞ আমাদের বড়দের শুরু থেকেই সাদ সাহেবকে সংশোধন করার চেষ্টা অব্যাহত ছিল ৷ বড়দের সামনে তিনি বলতেন, সতর্ক হব ৷ মাশওয়ারার সাথে চলব ৷ কিন্তু বড়জোর পাঁচ থেকে সাতদিন ৷ এরপর তথৈবচ ৷

☞ সাদ সাহেবের দুই উস্তাদ মাও. ইয়াকুব সাহেব ও মা. ইব্রাহিম দেওলা সাহেব তাকে নির্জনে বোঝাতেন ৷ কিন্তু তিনি আম বয়ানে বলতেন, আমি সবার বয়ান শুনি ৷ কারা কি কথা বলে, ভালো করেই জানি ৷ —

☞ ইব্রাহীম সাহেবসহ আমাদের বড়রা বলেন, চিল্লা ৩চিল্লা মাকসাদ নয় ৷ ভেতরে দীন আনা আসল ৷ এর প্রতিবাদ করে সাদ সাহেব আম মজমায় বলতেন, ৪০ বছর ধরে মানুষ মেহনত করছে ৷ কিন্তু বোঝেই না যে, খুরুজ আসল ৷

☞ জনাব নাদের আলি খান ৷ নিযামুদ্দিনের মুকিম এবং অনেক পুরোনো ও মেহনতি সাথী ৷ তিনি প্রতি রমযানে তার শায়খের নিকট ইতিকাফ করতেন ৷ তিনি একবার ইতিকাফে যাওয়ার জন্যে অনুমতি চাইতে গেলে সাদ সাহেব বলেন, ৪০ বছর ধরে লোকজন মেহনত করছে অথচ একিন নেই যে, দাওয়াতের মেহনতই নফসের ইসলাহের জন্যে যথেষ্ট ৷ তো নাদের সাহেব জানতে চান, আপনার ইসলাহি সম্পর্ক কার সাথে? সাদ সাহেব বলেন, দাওয়াতের সাথে ৷ দাওয়াত আমার শায়খ ৷
আহা! এসব কথা শুনে কত জোয়ান যে ইসলাহের ফিকির থেকে বিমুখ হয়েছে, তার হিসাব মেলা ভার ৷
আমি একজন সালের আলেমকে— যার সাত মাস সময় রানিং ছিল— জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ইসলাহি তাআল্লুক কার সাথে?
সে বলে, দাওয়াতের সাথে ৷ ব্যক্তিবিশেষের সাথে সম্পর্ক করা তো সাদ সাহেবের নিষেধ ৷ লা হাওলা ওয়া লা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!

☞ ২০১৫, ১১ জুন সকল মুরুব্বি হযরতের পক্ষ থেকে সাদ সাহেবকে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়, আপনার কারণে মেহনতে এই এই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে ৷ কাজের ক্ষতি হচ্ছে ৷ …
এর তিন দিন পর বোম্বের ইজতিমায় সাদ সাহেব আম মজমায় বলেন, কিছু সাথী আমাকে কাজ শেখাতে চায় ৷ দুঃখের কথা হল, তারা বুঝতেই চাইছে না যে, আমি মেহনতকে সীরাতের ওপর আনতে চাই ৷
ইন্না লিল্লাহ! আমাদের বড় তিন হযরত কি সীরাত পড়েননি? তারা কি মেহনতকে সীরাতের ওপর উঠিয়ে যাননি? নতুন করে মেহনতকে সীরাতের ওপর ওঠানোর কি আছে!

উক্ত মজমায় তিনি আরো বলেন, আমাকে বলা হচ্ছে, পরামর্শ করে মেহনত করতে ৷ কিন্তু আমি কার সাথে পরামর্শ করব? ওরা তো কাজই করতে চায় না?

ইন্না লিল্লাহ! মাওলানা ইব্রাহিম সাহেব আহমাদ লাট সাহেব প্রমুখ, যারা মেহনতের পেছনে জীবনটা শেষ করে দিলেন এবং এখনো শেষ করে চলেছেন, তারা নাকি কাজই করতে চান না!
এর কিছুদিন পর কতিপয় মুরুব্বি আবার তাকে বোঝাতে চেষ্টা করেন ৷ কিন্তু সেপ্টেম্বরে এক ইজতিমায় তিনি ভরা মজমায় বলেন, কিছু প্রফেসর এসেছিল আমাকে মেহনত শেখাতে ৷ যাদের কাজ হল, ইংরেজি পড়া পড়ানো ৷ তারা মেহনতের কি বোঝে?

☞ এরপর থেকে সাদ সাহেব আম মজমায় বলতে শুরু করেন, যারা বলে মেহনতের নেহেজ বদলে গেছে, তারা শয়তানি ওয়াসওয়াসার মধ্যে আছে ৷
☞ একবার সাদ সাহেবকে তার উসতাদ মাওলানা ইয়াকুব সাহেব বলেন, এখানে তো কোন আমির নেই ৷ প্রতি উত্তরে সাদ সাহেব বলেন, যে বলে এখানে আমির নেই সে গাধা ৷

☞ মাওলানা সাদ সাহেব এক পুরোনো সাথীকে তার ইতাআতের পক্ষে বলতে বললে সেই সাথী বলেন, এ ব্যাপারে আমার ইনশিরাহ অর্থাৎ “মনের সায়” নেই ৷ এতে সাদ সাহেব বলেন, যারা বলে ইতাআতের পক্ষে ইনশিরাহ নেই, তারা গাধা ৷

☞ এক খাস মজলিসে সাদ সাহেবের স্বপক্ষের একজন তাকে জিজ্ঞেস করে, হযরত, আপনি কি রুজু অর্থাৎ কথিত আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন? মজলিসে অপর পক্ষের কেউ নেই ভেবে উত্তরে তিনি বলেন, আমি কোন ধরনের রুজু করিনি ৷
ঘটনাচক্রে উক্ত মজলিসে আলিগড় ভার্সিটির একজন প্রফেসর উপস্থিত ছিলেন ৷ তিনি উক্ত তথ্যটা ফাঁস করে দেন ৷

☞ হযরত মুসা আ. এর ব্যাপারে আপত্তিকর বয়ান করার পর চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠলে সাদ সাহেব সংশ্লিষ্ট বক্তব্য হতে রুজু করেছেন বলে প্রকাশ করেন ৷ এতে দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা নুমান কাসেমি সাহেব তার রুজু গৃহীত হওয়ার পক্ষে দাপ্তরিক পত্র লিখিয়ে এক আস্থাভাজনকে নিযামুদ্দিন মারকাযের উদ্দেশে প্রেরণ করেন ৷ কিন্তু আফসোস! বাদ ফজর লোকটি নিযামুদ্দিন পৌঁছে দেখেন, সাদ সাহেব মুসা আ. সম্পর্কে ঐ একই বয়ান পেশ করছেন ৷ ফলে, পত্র নিয়ে তিনি দেওবন্দে ফিরে চলে আসেন ৷

☞ সাদ সাহেবের যে রুজু তা রুজু নয়, বরং জাওয়াবি কাররাওয়াইয়াঁ বলে অভিহিত হওয়ার যোগ্য ৷

☞ সাদ সাহেবের অনুসারীদের পক্ষ থেকে দারুল উলুম দেওবন্দ এবং তার ফতোয়া বিভাগ সম্পর্কে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা কোন বাতিল ফিরকাও কখনো চিন্তা করেনি ৷

☞ ২০১৫, নভেম্বরে পাকিস্তানে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট এক আলমি শুরা গঠিত হয় ৷ বর্তমানে ২ জন (অর্থাৎ সাদ সাহেব ও বাংলাদেশের ওয়াসিফ সাহেব) ছাড়া বাকি ১১ জনই শুরায়ি নিযামের সাথে আছেন ৷ সংখ্যাগরিষ্ঠ সাথীরাও এই শুরায়ি নিযামের সাথেই আছেন ৷ সকল মাদরাসা,সকল সিলসিলার
মাশায়েখে কেরাম এবং ওলামা ফুকাহাও শুরায়ি নিযামের সমর্থক ৷

☞ ইতাআত করলে হাদিসের ভাষ্যমতে ছাওয়াদে আযম তথা আহলে ইলম আহলে হক এবং আহলে তাকওয়ার ইতাআত করতে হবে ৷

☞ হযরত আলি রা. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল স. তাকে বলেন, ফকিহদের জামাতের সাথে চলবে ৷ কোন একজনের সাথে চলবে না ৷ অতএব কোন ব্যক্তি নিযামের নাম ইতাআত দেয়াও ঠিক নয় ৷

☞ এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন, ব্যক্তি নিযামের সাথে থাকবেন নাকি শুরায়ি নিযামের সাথে?

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর-রাহা সেবাই আমাদের ধর্ম।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
২৪৯,৫৯৮
সুস্থ
১৪৩,৮২৬
মৃত্যু
৩,৩০৬
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,৯৭৭
সুস্থ
২,০৭৪
মৃত্যু
৩৯
স্পন্সর: একতা হোস্ট



©Copyright 2020 Sathivai.com
Desing & Developed BY sayem mahamud